মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা একের পর এক তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় দফায় ক্রমাগত রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। কেউ প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন, কেউ গোপনে সরে যাচ্ছেন, আবার কেউ আগের মতো সমর্থন দিচ্ছেন না। এতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের একটি ‘রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারে ব্যর্থতা, নিজের পছন্দের অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়ে ক্যাপিটল হিলে জটিলতা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসে এখন কঠিন সময় পার করছেন ট্রাম্প। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রথম মেয়াদে তাঁর সংঘাত মূলত প্রশাসন ও বিরোধীদের সঙ্গেই বেশি দেখা যেত, কিন্তু এবার তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও অনুগত মিত্রদেরও সঙ্গ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হতে দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের ‘রিফ্লেক্টিং পুল’ ধ্বংসের অভিযোগে সাবেক অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা গুরুতর অপরাধের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরো, যিনি ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক ও ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। আদালতের নথিতে জেনিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো নাশকতামূলক ভাঙচুর ছিল না, বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুল তথ্য ও ত্রুটিপূর্ণ সংস্কারকাজের ফলেই ক্ষতি হয়েছিল। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই ‘নাশকতার’ দাবিতে অনড় ছিলেন। মামলা প্রত্যাহারের পর ওভাল অফিস ও ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে হার্ন ছাতার মতো ভেঙে পড়েছে। আদালতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুক্তি না পেয়ে পিরো পিছু হটলেও ট্রাম্প বাস্তব প্রমাণ এড়িয়ে নিজের অবস্থানেই অনড় থাকেন।
ক্যাপিটল হিলেও অপ্রিয় রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ট্রাম্পকে। নিজের সাবেক ফৌজদারি প্রতিরক্ষা আইনজীবী টড ব্ল্যাঞ্চকে স্থায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বসাতে গিয়ে দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিন ও থম টিলিসের বাধার মুখে পড়েন তিনি। সিনেটররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ বাতিল না করলে তাঁরা ব্ল্যাঞ্চকে অনুমোদন দেবেন না। এই তহবিল থেকে ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্ত সমর্থকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সিনেটর টিলিস এটিকে অপরাধীদের জন্য নগদ অর্থ পাওয়ার মাধ্যম বলে সমালোচনা করেন। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এই তহবিল পাসের জন্য লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেও পরদিনই সিনেটের রাজনৈতিক সমীকরণ মেনে নিয়ে সিনেটরদের শর্তে রাজি হয়ে যান ব্ল্যাঞ্চ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কম জটিলতায় পড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা স্থগিত করেছেন এবং তেহরানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ইরান সরাসরি এমন কোনো বৈঠকের কথা অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতারক বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং স্পষ্ট কোনো সাফল্য না আসায় মার্কিন জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুই মার্কিন আইনপ্রনেতার ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান
এই পরিস্থিতিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিএনএন ও কিউনিপিয়াকের যৌথ জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে ক্যাপিটল দাঙ্গার পরের সময় এবং পদত্যাগ করা রিচার্ড নিক্সন ছাড়া আর কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা দেখা যায়নি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ধস রিপাবলিকান দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































3 comments on “রাজনৈতিক-আইনি সংকটে কোণঠাসা ট্রাম্প”